ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর ও ফতোয়া সমূহ

গ্রামদেশে একটি কথা বেশ প্রসিদ্ধ যে, পুরো পৃথিবী একটি ষাঁড়ের শিংয়ের উপর অবসি'ত। ষাঁড় যখন শিং নাড়া দেয় তখন পৃথিবীতে ভূমিকম্প হয়। এটা নাকি হাদীস। আমাদের দেশের কোনো কোনো বক্তা খুব মুখরোচকভাবে বলে থাকেন। জানতে চাই তা সহীহ কি না?

বিবিধ
এমন কথা কোনো হাদীসে নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আল্লামা ইবনুল কাইয়েম রাহ. এবং আবু হাইয়ান রাহ. একে ভিত্তিহীন ও জাল বলেছেন। -আলমানারুল মুনীফ পৃ. ৭৮; আলইসরাঈলিয়্যাত ওয়ালমাওযূআত ৩০৫ উত্তর দিয়েছেন :...
অজ্ঞাত মুফতি
08 Sep, 2025

অনেকে বলে মাজারকে কবর বলা যাবে না। এতে করে ওলি আল্লাহদের অসম্মান হয়। আসলে কবর ও মাজারের পার্থক্য কী? কবরকে মাজার শরীফ ও মাজার শরীফকে কবর বলা যাবে কি? মাজার শরীফের উৎপত্তি কখন এবং কোথা হতে? আওলিয়ায়ে কিরামের মাজারকে কবর বললে তাদেরকে অসম্মান করা হয় কি না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরকে রওজা শরীফ বলা হয় কেন? মাজারকে সিজদা করা, চুমু দেওয়া, মাজারকে ভক্তি দেখিয়ে পিছন হয়ে বের হওয়া, মাজারে গিলাফ চড়ানো এবং মাজারের মধ্যে টাকা-পয়সা ফেলা, মাজারের সামনে গাছের গোড়ায় মোমবাতি জ্বালানো, আগরবাতি জ্বালানো, গোলাপ জল ছিটানো শরীয়তসম্মত কি না? না হলে ওলি আল্লাহদের মাজার বা কবরকে শ্রদ্ধা, ভক্তি ও যিয়ারতের পদ্ধতি কী? কুরআন-হাদীসের আলোকে দলিলসহ বিস্তারিত জানালে দ্বীন পালনে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।

আদব-ব্যবহার
কবর শব্দের অর্থ দাফনস্থল অর্থাৎ যে স্থানে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়। আর মাযার শব্দের অর্থ দুটি : যিয়ারত করা এবং যিয়ারত স্থল। তাই যে কোনো মুসলমানের দাফনস্থলকে যেমন কবর বলা যায় তেমনি যে কোনো মুসলমানের...
অজ্ঞাত মুফতি
08 Sep, 2025

আমদের এলাকায় প্রচলন রয়েছে যে, বিয়ে উপলক্ষে কনের ইজিন নেওয়ার সময় কনের দু’জন কফিল এবং বরের দু’জন কফিল উপস্থিত থাকতে হয়। তাদের উপসি'তিতে কোনো আলেম সাহেব খুতবা পড়ে নিয়মানুযায়ী ইজিন নেন। বরপক্ষে কফিলের উপস্থিতির কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল, সাক্ষী স্বরূপ তাদের উপস্থিতি জরুরি। জানার বিষয় এই যে, কনের ইজিন নেওয়ার সময় বরপক্ষের উকিলের সাক্ষীস্বরূপ উপসি'তি শরীয়তসম্মত কি না? ইজিন নেওয়ার সময় বরপক্ষের সাক্ষীর থাকা জরুরি কি না।

বিবিধ
মেয়ে থেকে বিয়ের ইজিন তথা অনুমতি নেওয়ার জন্য সাক্ষী থাকা অপরিহার্য নয়। একজন ব্যক্তিও মেয়ে থেকে অনুমতি নিয়ে এসে তার পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব বা কবুল করতে পারে। অবশ্য এক্ষেত্রে সাক্ষী রাখা জরুরি...
অজ্ঞাত মুফতি
08 Sep, 2025

লোকমুখে শোনা যায় যে, আহার অবস্থায় সালাম দেওয়া ঠিক নয়। এমনিভাবে আগন্তুক এসে ঘরের লোকজনকে আহার অবস্থায় পেলে সালাম দিতে হয় না। প্রশ্ন হল, এই প্রচলিত কথাগুলো কি সঠিক?

আদব-ব্যবহার
আহারকারী অন্যকে সালাম দিতে পারবে। এ সময় অন্যকে সালাম দেওয়া নিষিদ্ধ নয়। তদ্রূপ আহারকারীকেও সালাম দেওয়া বৈধ। তবে এ সময় সালাম দেওয়া যদি তার কষ্ট বা বিরক্তির কারণ হয় তাহলে সালাম দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। কে...
অজ্ঞাত মুফতি
08 Sep, 2025

আড়তে যে সকল মালামাল বিক্রি করা হয় এর বিনিময়ে আড়তদার ক্রেতা বিক্রেতা উভয় থেকে কমিশন গ্রহণ করে থাকে। এটা বৈধ কি না জানিয়ে বাধিত করবেন।

বিবিধ
আড়তের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আড়তদার কর্তৃক ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় থেকে কমিশন নেওয়া নাজায়েয নয়। কেননা তারা উভয়ই আড়ত ব্যবহার করছে। তবে কমিশনের পরিমাণ যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া...
অজ্ঞাত মুফতি
08 Sep, 2025

একটি দোকানে আমরা কয়েকজন উপস্থিত ছিলাম। তখন জামাতের সময় হয়ে গেলে আমাদের একজন দোকানদারকে নামাযের দাওয়াত দিল। আমরা জানি সে মুসলমান। কিন্তু সে উত্তরে বলল, আমি নামায পড়ব না। আমি মুসলমান না, আমি হিন্দু। তাকে বলা হল, আপনি এটা কেমন কথা বলছেন? সে আরো জোরের সঙ্গে বলল, হাঁ, আমি হিন্দু। যান, যান। প্রশ্ন হল, এ কথা বলার পর সে মুসলমান থাকবে কি না?

আদব-ব্যবহার
‘আমি মুসলমান না, আমি হিন্দু’ এ ধরনের বাক্য কুফরী কথার অন্তর্ভুক্ত। স্বেচ্ছায় কেউ এমন কথা বললে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। অতএব এ কথা বলার কারণে ঐ ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে। বিবাহিত হলে বিবাহ ভেঙ্গে...
অজ্ঞাত মুফতি
08 Sep, 2025

লোকমুখে শোনা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন হযরত জিবরাঈল আ. এই বলে সামনে অগ্রসর হতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন যে, আমি আর এক কদম অথবা আর এক চুল পরিমাণ অগ্রসর হলে আমার ডানাসমূহ জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে-একথা সহীহ কি না?

বিবিধ
একথা ভিত্তিহীন। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ ইবনে সিদ্দীক আলগুমারী রাহ. বলেন, ‘‘এরূপ ধারণা করা নিকৃষ্টতম বাড়াবাড়ি যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছলেন তখন জিবর...
অজ্ঞাত মুফতি
08 Sep, 2025

আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রচলন আছে যে, কাউকে তার পক্ষ থেকে ডাকতে হলে বলে দেয় যে, তাকে গিয়ে আমার সালাম বলবে। এরূপ বললে তিনি বুঝতে পারেন যে, তাকে ডাকা হচ্ছে তখন তিনি চলে আসেন। আবার কখনো সাধারণভাবে কাউকে ডাকতে পাঠালেও সে গিয়ে বলে, অমুকে সালাম জানিয়েছেন। আমার প্রশ্ন এই যে, সালামের এরূপ ব্যবহার জায়েয আছে কি না? এক্ষেত্রে সালামের জবাব দেওয়া জরুরি কি না? জানালে উপকৃত হব।

আদব-ব্যবহার
কাউকে ডাকার জন্য ‘অমুক আপনাকে সালাম জানিয়েছেন’ এভাবে বলা জায়েয হলেও তা ঠিক নয়। কারণ ‘সালাম’ শরীয়তের একটি বিশেষ পরিভাষা। শরীয়তের নির্ধারিত ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অ...
অজ্ঞাত মুফতি
08 Sep, 2025

অনেকে বড়শিতে কেঁচো বা ছোট মাছ বিদ্ধ করে মাছ শিকার করেন। এটা জায়েয আছে কি না?

বিবিধ
বড়শিতে মাছ বা কেঁচো গাঁথার আগে তা মেরে নিলে তা দ্বারা মাছ ধরা জায়েয হবে। কিন্তু জ্যান্ত মাছ বা কেঁচো বড়শিতে গেঁথে মাছ শিকার করা জায়েয নয়। সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৫১৩; সহীহ মুসলিম হাদীস : ৫০১৭; তাকমিলাত...
অজ্ঞাত মুফতি
08 Sep, 2025

কোনো কোনো লোককে দেখা যায়, সালাম দিলে উত্তরে শুধু মাথা নাড়ায়। মুখে জওয়াব দেয় না। প্রশ্ন হল, শুধু মাথা নাড়ালেই সালামের জওয়াব আদায় হবে কি না? জানাবেন।

আদব-ব্যবহার
সালামদাতাকে জওয়াব শুনিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। জওয়াব না শুনিয়ে নিম্ন স্বরে দেওয়া যথেষ্ট নয়। আর মৌখিক জওয়াব না দিয়ে শুধু মাথা নাড়ানোর দ্বারা সালামের উত্তর আদায় হয় না। উল্লেখ্য যে, যদি সালামদাতা ব...
অজ্ঞাত মুফতি
08 Sep, 2025

ফতোয়া জিজ্ঞাসা করুন

আপনার ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর পেতে নিচের ফর্ম পূরণ করুন।