ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর ও ফতোয়া সমূহ
আমদের এলাকায় প্রচলন রয়েছে যে, বিয়ে উপলক্ষে কনের ইজিন নেওয়ার সময় কনের দু’জন কফিল এবং বরের দু’জন কফিল উপস্থিত থাকতে হয়। তাদের উপসি'তিতে কোনো আলেম সাহেব খুতবা পড়ে নিয়মানুযায়ী ইজিন নেন। বরপক্ষে কফিলের উপস্থিতির কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল, সাক্ষী স্বরূপ তাদের উপস্থিতি জরুরি। জানার বিষয় এই যে, কনের ইজিন নেওয়ার সময় বরপক্ষের উকিলের সাক্ষীস্বরূপ উপসি'তি শরীয়তসম্মত কি না? ইজিন নেওয়ার সময় বরপক্ষের সাক্ষীর থাকা জরুরি কি না।
বিবিধ
মেয়ে থেকে বিয়ের ইজিন তথা অনুমতি নেওয়ার জন্য সাক্ষী থাকা অপরিহার্য নয়। একজন ব্যক্তিও মেয়ে থেকে অনুমতি নিয়ে এসে তার পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব বা কবুল করতে পারে। অবশ্য এক্ষেত্রে সাক্ষী রাখা জরুরি...
আড়তে যে সকল মালামাল বিক্রি করা হয় এর বিনিময়ে আড়তদার ক্রেতা বিক্রেতা উভয় থেকে কমিশন গ্রহণ করে থাকে। এটা বৈধ কি না জানিয়ে বাধিত করবেন।
বিবিধ
আড়তের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আড়তদার কর্তৃক ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় থেকে কমিশন নেওয়া নাজায়েয নয়। কেননা তারা উভয়ই আড়ত ব্যবহার করছে। তবে কমিশনের পরিমাণ যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া...
লোকমুখে শোনা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন হযরত জিবরাঈল আ. এই বলে সামনে অগ্রসর হতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন যে, আমি আর এক কদম অথবা আর এক চুল পরিমাণ অগ্রসর হলে আমার ডানাসমূহ জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে-একথা সহীহ কি না?
বিবিধ
একথা ভিত্তিহীন। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ ইবনে সিদ্দীক আলগুমারী রাহ. বলেন, ‘‘এরূপ ধারণা করা নিকৃষ্টতম বাড়াবাড়ি যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছলেন তখন জিবর...
অনেকে বড়শিতে কেঁচো বা ছোট মাছ বিদ্ধ করে মাছ শিকার করেন। এটা জায়েয আছে কি না?
বিবিধ
বড়শিতে মাছ বা কেঁচো গাঁথার আগে তা মেরে নিলে তা দ্বারা মাছ ধরা জায়েয হবে। কিন্তু জ্যান্ত মাছ বা কেঁচো বড়শিতে গেঁথে মাছ শিকার করা জায়েয নয়। সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৫১৩; সহীহ মুসলিম হাদীস : ৫০১৭; তাকমিলাত...
অনেককে বলতে শোনা যায় যে, ইমাম সাহেব রুকু থেকে উঠার সময় শুধু سمع الله لمن حمده বলবেন। ربنا لك الحمد বলবেন না। এ কথাটি কি সঠিক?
বিবিধ
ইমাম সাহেব রুকু থেকে দাঁড়িয়ে ربنا لك الحمد বলবে কি না-এ বিষয়ে একাধিক মত রয়েছে। তবে অগ্রগণ্য মত অনুযায়ী ইমামের জন্যও ربنا لك الحمد বলা উত্তম। সহীহ বুখারী ১/১০৯; ফাতহুল কাদীর ১/২৬০; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১...
নামাযের প্রথম সারিতে দাঁড়ানো ব্যক্তি সম্পর্কে হাদীস শরীফে বিভিন্ন ফযিলত বর্ণিত হয়েছে। প্রশ্ন হল কোনো নেতৃস্থানীয় লোক যেমন মন্ত্রী, এমপি বা অন্য কেউ যদি সামনের কাতারে দাঁড়ানো লোককে সরিয়ে দেয় এবং সে স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় সামনের কাতার থেকে সরে আসে তাহলে তাদের দু’জনের মধ্য থেকে বর্ণিত সওয়াবের অধিকারী কে হবে?
বিবিধ
এক্ষেত্রে সামনে উপবিষ্ট মুসল্লীর সম্মতি থাকলে কিংবা সে নিজেই জায়গা ছেড়ে দিলে দু’জনই সামনের কাতারের সওয়াব পাবে। আর পূর্ব থেকে বসে থাকা মুসল্লীর সম্মতি ছাড়া তাকে সরিয়ে দিয়ে অন্য কেউ বসলে পরবর্তী ব্যক্ত...
বিশ বছর পূর্বে বাড়ি বানানোর উদ্দেশ্যে ঢাকা শহরে একটি জমি ক্রয় করি। এখন আমি ঐ জমিতে বাড়ি বানানোর কাজ শুরু করেছি। কিন্তু এক স্থানে গর্ত করতে গিয়ে মাটির নিচে একটি কঙ্কাল পাওয়া গেল। জমি-বিক্রেতাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল, আমার জানামতে এখানে কোনো কবর ছিল না। যা দ্বারা বুঝা যায় এটি অনেক পুরাতন কবর। আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় শরীয়তের দৃষ্টিতে আমার কী করণীয়? উল্লেখ্য, ঐ স্থানে আমার বাড়ি বানানো খুবই প্রয়োজন।
বিবিধ
প্রশ্নোল্লিখিত অবস্থায় আপনি ঐ কঙ্কাল উঠিয়ে অন্যত্র দাফন করে দিতে পারেন। অথবা সেখানেও মাটির নিচে পুঁতে রেখে সমান করে দিয়ে উপরে বাড়ি নির্মাণ করতে পারবেন। পারবেন।-ফাতহুল কাদীর ২/১০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/...
আমাদের এলাকায় প্রসিদ্ধ আছে যে, কারো বাড়িতে পেঁচা বসলে সেখানে কোনো বিপদ হবে। পেঁচাকে অমঙ্গলজনক মনে করা হয়। জানতে চাই ঐ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কী?
বিবিধ
আপনাদের এলাকার ঐ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পেঁচা অন্যান্য পাখির মতোই একটি পাখি। এর সাথে কোনো অনিষ্ট জড়িত নেই এবং এটি কোনো অমঙ্গলের নিদর্শনও নয়। একে অমঙ্গলজনক মনে করা সম্পূর্ণ ভুল। ইসলামপূর্ব জাহেলী...
ফুল সম্পর্কে জ্ঞানী-গুণীদের অনেক মন্তব্য পড়েছি, শুনেছি। নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ফুল সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। আমি এ বিষয়ে একটি সহীহ হাদীস জানতে চাই।
বিবিধ
হ্যাঁ, ফুল নিয়ে নবীজীর অনেক কথা হাদীসের গ্রন্থসমূহে রয়েছে। তন্মধ্যে একটি সহীহ হাদীস হল, হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কাউকে যদি ফুল পেশ করা হয় তাহলে ফির...
একটি সীরাত-গ্রন্থের শুরুর দিকে লেখা হয়েছে, ‘প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা হযরত রূকাইয়্যা রা. নিঃসন্তান অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।’ ঐ গ্রন্থেই শেষের দিকে লেখা হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে উসমান নামে রূকাইয়্যা রা.-এর একজন পুত্রসন্তান ছিল। জানতে চাই, কোন তথ্যটি সঠিক?
বিবিধ
প্রশ্নোক্ত গ্রন্থের দ্বিতীয় বক্তব্যই সঠিক। প্রথম বক্তব্যটি লেখা হয়েছে একটি দুর্বল বর্ণনার ভিত্তিতে, যা ঠিক নয়। আলইসতিযকার ৪/১৮৪০; আলইসাবা ৭/৬৪৯; আলবিদায়া ওয়াননিহায়া ৮/২৪২; সীরাতুন্নবী আল্লামা শীবলী ন...
ফতোয়া জিজ্ঞাসা করুন
আপনার ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর পেতে নিচের ফর্ম পূরণ করুন।