ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর ও ফতোয়া সমূহ
একটি দোকানে আমরা কয়েকজন উপস্থিত ছিলাম। তখন জামাতের সময় হয়ে গেলে আমাদের একজন দোকানদারকে নামাযের দাওয়াত দিল। আমরা জানি সে মুসলমান। কিন্তু সে উত্তরে বলল, আমি নামায পড়ব না। আমি মুসলমান না, আমি হিন্দু। তাকে বলা হল, আপনি এটা কেমন কথা বলছেন? সে আরো জোরের সঙ্গে বলল, হাঁ, আমি হিন্দু। যান, যান। প্রশ্ন হল, এ কথা বলার পর সে মুসলমান থাকবে কি না?
আদব-ব্যবহার
‘আমি মুসলমান না, আমি হিন্দু’ এ ধরনের বাক্য কুফরী কথার অন্তর্ভুক্ত। স্বেচ্ছায় কেউ এমন কথা বললে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। অতএব এ কথা বলার কারণে ঐ ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে। বিবাহিত হলে বিবাহ ভেঙ্গে...
আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রচলন আছে যে, কাউকে তার পক্ষ থেকে ডাকতে হলে বলে দেয় যে, তাকে গিয়ে আমার সালাম বলবে। এরূপ বললে তিনি বুঝতে পারেন যে, তাকে ডাকা হচ্ছে তখন তিনি চলে আসেন। আবার কখনো সাধারণভাবে কাউকে ডাকতে পাঠালেও সে গিয়ে বলে, অমুকে সালাম জানিয়েছেন। আমার প্রশ্ন এই যে, সালামের এরূপ ব্যবহার জায়েয আছে কি না? এক্ষেত্রে সালামের জবাব দেওয়া জরুরি কি না? জানালে উপকৃত হব।
আদব-ব্যবহার
কাউকে ডাকার জন্য ‘অমুক আপনাকে সালাম জানিয়েছেন’ এভাবে বলা জায়েয হলেও তা ঠিক নয়। কারণ ‘সালাম’ শরীয়তের একটি বিশেষ পরিভাষা। শরীয়তের নির্ধারিত ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অ...
কোনো কোনো লোককে দেখা যায়, সালাম দিলে উত্তরে শুধু মাথা নাড়ায়। মুখে জওয়াব দেয় না। প্রশ্ন হল, শুধু মাথা নাড়ালেই সালামের জওয়াব আদায় হবে কি না? জানাবেন।
আদব-ব্যবহার
সালামদাতাকে জওয়াব শুনিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। জওয়াব না শুনিয়ে নিম্ন স্বরে দেওয়া যথেষ্ট নয়। আর মৌখিক জওয়াব না দিয়ে শুধু মাথা নাড়ানোর দ্বারা সালামের উত্তর আদায় হয় না। উল্লেখ্য যে, যদি সালামদাতা ব...
আমাদের মসজিদে ইমাম সাহেব তারাবীর নামাযের শেষ বৈঠকে এ পরিমাণ বসার পর সালাম ফিরিয়ে দেন যে সময়ে শুধু তাশাহহুদ পড়া যায়। দুরূদ ও দুআ পড়া যায় না। এখন আমার জানার বিষয় হল, তারাবীর নামাযে ইমামের জন্য দরূদ ও দুআ পড়ার কি হুকুম? পড়বে, না পড়বে না।
আদব-ব্যবহার
অন্য নামাযের মতো তারাবীতেও শেষ বৈঠকে দুরূদ ও দুআ পড়া সুন্নত। ইমাম-মুক্তাদী সকলের জন্যই সুন্নত। ইমামের উচিত শেষ বৈঠকে দুআ-দুরূদ এমন ধীর গতিতে পড়া যেন ঐ সময়ের মধ্যে মুক্তাদীদের দুরূদ ও দুআ পড়া সম্ভ...
আমাদের মসজিদে তাবলীগ জামাতের গাস্তের দিন এক ব্যক্তি ঈমান-একিনের কথা শুনার জন্য এক হিন্দু ব্যক্তিকে মসজিদে নিয়ে আসে এবং সে দীর্ঘ সময় মসজিদে বসে দ্বীনী কথা শুনে। এখন আমার জানার বিষয় হল, অমুসলিম ব্যক্তির জন্য কি মসজিদে প্রবেশ করা জায়েয আছে? এবং উক্ত ব্যক্তি জেনেশুনে অমুসলিম ব্যক্তিকে মসজিদে এনে কি ঠিক কাজ করেছেন? জানিয়ে উপকৃত করবেন।
আদব-ব্যবহার
দ্বীনী উদ্দেশ্যে হিন্দু বা বিধর্মীকে মসজিদে নিয়ে আসা জায়েয। হাদীস শরীফে এসেছে,‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু ছাকিফ গোত্রের কাফের প্রতিনিধি দলকে মসজিদে রেখেছিলেন, যাতে তারা কুরআন শুনে দ্...
আমি একবার জামাতে নামায আদায় করতে গিয়ে মাসবুক হলাম। ইমাম সাহেব নামায শেষে এক দিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সিজদা দিলেন। কিন্তু তিনি যে সাহু সিজদা দিবেন এটা বুঝতে না পারার কারণে তার সালাম ফিরানোর সাথে সাথেই আমি দাঁড়িয়ে গেলাম এবং বাকি নামায আদায় করতে লাগলাম। পরে তার সিজদা দেওয়া দেখেও আমি আর সিজদা দেইনি। তবে নামায শেষে সাহু সিজদা দিয়েছি। আমার নামায হয়েছে কি? এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী ছিল?
আদব-ব্যবহার
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নামায শেষে সাহু সিজদা করার কারণে আপনার নামায আদায় হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে (অর্থাৎ ছুটে যাওয়া নামায আদায়ের জন্য দাড়ানোর পর যখন ইমামকে সাহু সিজদা করতে দেখলেন তখন) আপনার উচিত ছিল ফ...
জনৈক ব্যক্তি যোহরের নামায আদায় করেন। সালাম ফিরানোর পর তার পাশে নামায আদায়কারী ব্যক্তি তাকে বলল, আপনি তিন রাকাত পড়েছেন। তখন তিনি বললেন, না। আমি চার রাকাতই পড়েছি। নিজের কথার উপর এখনও অসুস্থ। জানতে চাই, তিনি এখন নিজের উপর ভরসা করবেন, নাকি ঐ ব্যক্তির কথা অনুযায়ী আমল করবেন?
আদব-ব্যবহার
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির কথা শোনার পরও যদি নিজের কথা অর্থাৎ চার রাকাত পড়া হয়েছে-এ ধারণাই প্রবল থাকে তাহলে নামায পরিপূর্ণ হয়েছে বলেই গণ্য হবে। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির কথা ধর্তব্য হবে না এবং তদনু...
আমাদের এলাকায় এ পদ্ধতিতে ধান বেচাকেনা হয় যে, আপনি ১০০০/-টাকা দিবেন। ৪ বা ৫ মাস পরে আপনাকে ৩ বা ৪ মণ ধান দেবে। আলেমগণ এভাবে ধান বেচাকেনাকে জায়েয বলেন। আমরা শুনেছি যে, ধান ক্ষেত থেকে এভাবে বিক্রি করা নাকি নাজায়েয। বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন। আমাদের এলাকার ওই পদ্ধতিতে ধান বেচাকেনা শরীয়তসম্মত হবে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
আদব-ব্যবহার
প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ওই কারবারটি বাইয়ে সালামের (আগাম খরিদ) অন্তর্ভুক্ত। বাইয়ে সালাম জায়েয হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন- ১. পণ্য ও মূল্য সুনির্দিষ্ট করা। অর্থাৎ ধান বেচাকেনার ক্ষেত্রে ধান...
জনৈক ব্যক্তি দুই রাকাত বিশিষ্ট নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে বসে তাশাহহুদ পড়ে ভুলে দাড়িয়ে যায়। দাড়ানোর কিছুক্ষণ পর ভুল বুঝতে পারে এবং সাথে সাথে বসে পড়ে। বসে দরূদ শরীফ পাঠ করে সাহু সেজদা করে। অতঃপর তাশাহহুদ, দরূদ শরীফ ও দুআ পড়ে সালামের মাধ্যমে নামায শেষ করে। জানার বিষয় হল, ঐ ব্যক্তির জন্য বসার পর দরূদ শরীফ পড়ে সাহু সেজদা করা ঠিক হয়েছে কি? আর তার নামায আদায় হয়েছে কি?
আদব-ব্যবহার
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাহু সেজদা করার কারণে নামায হয়ে গেছে। তবে দাড়ানো থেকে বসার পর দরূদ শরীফ পড়া নিয়মসম্মত হয়নি; বরং সঠিক নিয়ম হল শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর ভুলে দাড়িয়ে গেলে ভুল বুঝামাত্র বসে...
একজন ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে মাত্র তিন তাকবীর বলেই সালাম ফিরিয়েছেন। তাকে অবগত করার পর তিনি বলেন, সমস্যা নেই। নামায সহীহ হয়েছে। তাকবীর কম হলে নামায অশুদ্ধ হয় না। কিন্তু মৃত ব্যক্তির অভিভাবকরা এ কথায় সন্তুষ্ট না হয়ে পরের দিন অন্য ইমাম এনে কবরের উপর নামায পড়েছে। প্রশ্ন হল, জানাযা সহীহ হয়েছে কি না? কবরের উপর দ্বিতীয় জানাযা পড়াতে কোনো অসুবিধা হবে কি না?
আদব-ব্যবহার
চার তাকবীরের কম হলে জানাযা সহীহ হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রথম জানাযা নামাযে একটি তাকবীর কম হওয়ায় সেটি আদায় হয়নি। আর পরবর্তীতে কবরকে সামনে নিয়ে যে জানাযা পড়া হয়েছে তা আদায় হয়েছে এবং শ...
ফতোয়া জিজ্ঞাসা করুন
আপনার ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর পেতে নিচের ফর্ম পূরণ করুন।