ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর ও ফতোয়া সমূহ
কুরআন মজীদে বিভিন্ন স্থানে যে সাকীনাহ শব্দ এসেছে এর অর্থ কী? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
বিবিধ
সাকীনার শাব্দিক অর্থ হল, রহমত, স্বস্তি-প্রশান্তি, স্থিরতা ও সংশয় দূরিভূত হওয়া। ইমাম কুরতুবী রাহ. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর বরাতে উল্লেখ করেছেন যে, সূরা বাকারায় উল্লেখিত সাকীনাহ ব্যতীত অন্য সকল...
নামাযের বৈঠকে দু’ হাত কীভাবে রাখব? বসা অবস্থায় হাত হাঁটু স্পর্শ করবে নাকি করবে না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।
বিবিধ
নামাযের বৈঠকে দুই হাত দুই উরুর উপর কীভাবে রাখবে এ ব্যাপারে একাধিক হাদীস রয়েছে। যেমন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদের জন্য বসতেন তখন ডান...
সিজদা আদায়ের ক্ষেত্রে নাক আগে মাটিতে রাখবে নাকি কপাল? এ বিষয়ে হাদীস শরীফের নির্দেশনা কী? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।
বিবিধ
হাদীস শরীফে নাক ও কপাল দ্বারা সিজদা করার নির্দেশ এসেছে। কিন্তু নাক ও কপালের মধ্যে কোনটি আগে রাখবে-এ বিষয়ের সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা হাদীস-আছারে পাওয়া যায়নি। অবশ্য ফকীহগণ থেকে এ বিষয়ে দুই ধরনের বক্...
হযরত থানভী রাহ.কৃত ‘কামালাতে আশরাফীয়া’ কিতাবে (পৃষ্ঠা ২৪২) উল্লেখ রয়েছে- حديث میں آيا ہے كہ اے عائشہ كسی نيك عمل كو حقير نہ سمجهنا ہر نيك عمل میں خاصيت مغفرت كی ہے، اسى طرح ہر گناہ میں خاصيت عذاب كی ہے چاہے چهوٹا ہو چاہے بڑا ہو এ হাদীসটি কোন কিতাবে আছে? হাদীসের পূর্ণ আরবী পাঠ এবং হাদীসের মান সম্পর্কে পূর্ণ তাহকীক জানালে কৃতজ্ঞ হব।
বিবিধ
প্রশ্নোক্ত উর্দু ইবারতের মধ্যে كسی نيك عمل كو حقير نہ سمجهنا ‘কোনো নেক কাজকে নগণ্য মনে করো না।’ এ অংশের সমার্থক হাদীসটি হল, لا تحقرن من المعروف شيئا পূর্ণ হাদীসটি নিম্নরূপ : لا تحقرن من المعروف شيئا...
কিছুদিন আগে আমি দশটি মেহগনি গাছ বিক্রি করি। ক্রেতা গাছগুলো শেকড়সুদ্ধ কেটে নিতে চায়। এ নিয়ে আমাদের মাঝে ঝগড়া হয়। আমি চাচ্ছি, ক্রেতা সেগুলো মাটির উপর থেকেই কেটে নিয়ে যাক। কেননা দুটো গাছ একেবারে আমার বাড়ি লাগোয়া। যেগুলো শেকড়সুদ্ধ উপড়াতে গেলে আমার বাড়ির দেয়াল ধ্বসে পড়ার প্রবল আশঙ্কা আছে। এ ব্যাপারে ইসলামী শরীয়তের আলোকে সঠিক সিদ্ধান্ত জানালে কৃতার্থ হব।
বিবিধ
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাড়ির সাথে লাগোয়া গাছ দুটো শেকড়সহ কেটে নিলে যেহেতু মালিকের ক্ষতি হবে তাই ক্রেতার জন্য গাছ দুটো শেকড়সহ কেটে নেওয়া বৈধ হবে না। মাটির উপর থেকেই কেটে নিতে হবে। আর অবশিষ্ট গাছগুলো...
কিছুদিন আগে আমি এক ব্যক্তির কাছে কিছু জমি বিক্রি করি। জমিগুলোর মধ্যে একটি জমিতে বাঁশঝাড় ছিল। বিক্রির সময় আমার নিয়ত ছিল, দু-একদিনের মধ্যেই আমি তা কেটে নিব। তবে বিক্রির সময় সেটা বলা হয়নি। এখন ক্রেতা বলছে, সে বাঁশসহ পুরো জমিটাই কিনেছে সুতরাং বাঁশগুলো তার। মূলত বাঁশগুলো কে পাবে? এ ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশনা জানিয়ে বাধিত করবেন।
বিবিধ
জমি বিক্রির সময় যেহেতু বাঁশ বিক্রির কথা উল্লেখ করা হয়নি তাই বাঁশগুলোর মালিক জমি বিক্রেতাই। অতএব বিক্রেতার কর্তব্য হল, বাঁশগুলো কেটে নিয়ে ক্রেতাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার জন্য বাঁশগু...
নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করার নিয়ম কী? লোমনাশক ওষুধ ব্যবহার করা যাবে কি না? অথবা কেউ যদি কেচি দিয়ে একেবারে ছোট করে রাখে তবে কোনো অসুবিধা আছে কি? কোনো কোনো অংশ মুন্ডানো কষ্টকর হয়। বিস্তারিত জানাবেন।
বিবিধ
এগুলো পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে উত্তম হল, তা মুন্ডিয়ে ফেলা। আর কেউ মুন্ডাতে না পারলে কেচি দ্বারা একেবারে খাটো করারও অবকাশ রয়েছে। অবশ্য এক্ষেত্রে লোমনাশক ওষুধও ব্যবহার করা যাবে। -ফাতহুল মুলহিম ১/৪১৯; আ...
কিছুদিন আগে আমি ঢাকা থেকে সিলেট টিলাগড় এলাকায় সফরে যাই। সেখানে পৌঁছে আসর নামাযে স্থানীয় মসজিদের জামাতে শরিক হই এবং মুসাফির হিসেবে ২ রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করে ফেলি। পরে একজন মুসল্লি আমাকে বললেন, মুকীম ইমামের পিছনে মুসাফির ব্যক্তি নামাযের নিয়ত/ইক্তিদা করলে চার রাকাত বিশিষ্ট নামায চার রাকাতই পড়তে হয়। এখন আমার এ নামাযের হুকুম কি? যদি পুনরায় আদায় করতে হয় তাহলে কত রাকাত আদায় করতে হবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
আদব-ব্যবহার
ওই ব্যক্তি ঠিকই বলেছে। চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযে মুসাফির ব্যক্তি মুকীম ইমামের পিছনে ইক্তিদা করলে তাকে পূর্ণ নামাযই পড়তে হবে। এক্ষেত্রে দুই রাকাত পড়লে নামায আদায় হবে না। অতএব আপনার ঐ নামাযও আদায...
এক ব্যক্তি তাওয়াফে যিয়ারতের পাঁচ চক্কর পূর্ণ করার পর অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। তখন সে বাকি দুই চক্কর আদায় করতে পারেনি। যিলহজ্বের ১২ তারিখের পর সে সুস্থ হয়। এ ব্যক্তির জন্য কী করণীয়? তাকে কি তাওয়াফে যিয়ারত আবার করতে হবে? আর এ কারণে কোনো দম দিতে হবে কি না?
বিবিধ
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি তাওয়াফে যিয়ারতের অবশিষ্ট দুই চক্কর আদায় করে নিবে। এতেই তার তাওয়াফে যিয়ারত পূর্ণ হয়ে যাবে। আর এই অবশিষ্ট দুই চক্কর ১২ যিলহজ্বের পর আদায় করার কারণে তার উপর দম ওয়াজ...
কিছুদিন পূর্বে একটি মাসিক পত্রিকায় একটি হাদীস পড়েছিলাম যে, এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করল ইয়া রাসূলাল্লাহ! দুনিয়া আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং আমার নিকট আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি ফেরেশতাদের দরুদ এবং মানবজাতির এই তাসবীহ দ্বারা কেন কল্যাণ অর্জন কর না, যার মাধ্যমে মানুষকে রিযিক প্রদান করা হয়? লোকটি নিবেদন করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কি? তিনি এরশাদ করেন, ‘‘তুমি সুবহে সাদিক হতে ফজরের নামায আদায় করা পর্যন্ত একশত বার سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم পাঠ করিও। দেখবে দুনিয়া তোমার পায়ে লুটিয়ে পড়বে। এর প্রত্যেকটি শব্দ দ্বারা আল্লাহ তাআলা একজন করে ফেরেশতা সৃষ্টি করবেন, যে কিয়ামত পর্যন্ত তার তসবীহ পাঠ করতে থাকবে এবং তুমি এর সওয়াব পেতে থাকবে। আমার জানার বিষয় হল, এই হাদীসটি কোন কিতাবে আছে এবং তা আমল যোগ্য কি না জানিয়ে বাধিত করবেন।
আদব-ব্যবহার
প্রশ্নোক্ত বর্ণনাটি ইমাম গাযালী রাহ. এহইয়াউ উলূমুদ্দীন গ্রন্থে ‘যিকিরের ফযীলত’ অধ্যায়ে সনদহীন উল্লেখ করেছেন। এই রেওয়ায়াতটি রিজাল শাস্ত্রের একাধিক কিতাবে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম তাবারীর সূত্রে বর্ণনা ক...
ফতোয়া জিজ্ঞাসা করুন
আপনার ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর পেতে নিচের ফর্ম পূরণ করুন।