ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর ও ফতোয়া সমূহ
যোহরের পূর্বে চার রাকাত সুন্নতে যদি প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া অবস্থায় ইকামত শুরু হয়ে যায় তাহলে করণীয় কী? সালাম ফিরিয়ে ফরয নামাযে শরীক হবে, নাকি চার রাকাত পূর্ণ করবে? জানালে উপকৃত হব।
আদব-ব্যবহার
এ অবস্থায় বাকি দুই রাকাত পড়বে না; বরং বৈঠক পূর্ণ করে সালাম ফিরিয়ে জামাতে শরীক হবে। জামাত শেষ হওয়ার পর দুই রাকাত সুন্নত আদায় করে পূর্বের চার রাকাত সুন্নতও পড়ে নিবে। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৬৫১;...
গুলশানে হিন্দুদের পরিচালিত একটি ফ্যাক্টরি আছে। সেখানে তারা শুধু হিন্দুদেরকেই চাকুরি দেয়। একজন মুসলমান সেখানে চাকুরি নেওয়ার জন্য নিজেকে হিন্দু বলে প্রকাশ করেছে। নিজের ও পিতার নাম হিন্দু নাম রেখেছে। ইন্টারভিউতে জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে হিন্দু পরিচয় দিয়েছে এবং সুস্পষ্টভাবে বলেছে যে, আমি মুসলমান না, হিন্দু। জানতে চাই, এর কারণে তার ঈমানের ক্ষতি হয়েছে কি না? এভাবে বলা কতটুকু অপরাধ হয়েছে? লোকটি বিবাহিত।
আদব-ব্যবহার
প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ‘আমি মুসলমান নই, হিন্দু’ এভাবে বলা এবং হিন্দু হিসেবে পরিচয় দেওয়া কুফরী কাজ হয়েছে। এভাবে বলার দ্বারা ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। তাই লোকটির জন্য এক্ষুণি তওবা করত পুনরায় কালিমা শা...
একটি ছোট্ট বইয়ে পড়েছি, খালি ঘরে প্রবেশের সময় এভাবে সালাম দেওয়া মুস্তাহাব-‘আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন।’ কথাটি কি সঠিক? কোন হাদীস থাকলে বরাতসহ জানালে উপকৃত হব।
আদব-ব্যবহার
হ্যাঁ, কথাটি সঠিক। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, ‘খালি ঘরে বা মসজিদে প্রবেশকালে এভাবে সালাম দিবে-‘আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন।’’ বিখ্যাত তাবেয়ী ইকরিমা রাহ. থেকেও এরূপ বর্ণিত আছ...
আমাদের এলাকার একজন আলেম সালাম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ‘আসসালামু কাবলাল কালাম’ কথাটিকে হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আসলেও কি কথাটি হাদীস? হাদীস হলে তা কোন কিতাবে আছে উদ্ধৃতিসহ জানানোর অনুরোধ রইল।
আদব-ব্যবহার
উক্ত বাক্যটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সনদে (বিশুদ্ধ সূত্রে) প্রমাণিত নয়। ইমাম তিরমিযী রাহ. তাঁর জামে তিরমিযীতে উক্ত বাক্যটি উল্লেখ করার পর বলেন, هذا حديث منكر অর্থাৎ এটি...
আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব আছর ও ফজর নামাযের সালামের পর কিবলা থেকে ঘুরে মুসল্লীদের দিকে ফিরে বসেন। এক্ষেত্রে যদি কোনো মাসবুক তার মুখোমুখী থাকে চাই সে যত দূরেই হোক তিনি তার মুখোমুখী বসেন না; বরং ডানে বা বামে একটু ঘুরে বসেন। যখন মাসবুকের নামায শেষ হয়ে যায় তখন তিনি সোজা হয়ে বসেন। জানার বিষয় হল, ইমাম সাহেব ও মাসবুকের মাঝে যদি কয়েক কাতার মুসল্লী থাকে যাদের নামায শেষ হয়ে গেছে তাহলে এর ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও কি তার মুখোমুখী হয়ে বসা যাবে না? আশা করি জানিয়ে বাধিত করবেন।
আদব-ব্যবহার
ইমাম সাহেব ও মাসবুকের মাঝে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির আড়াল থাকলে ইমামের জন্য নামায শেষে ঐ মাসবুকের মুখোমুখী হয়ে বসা জায়েয আছে। তবে এক্ষেত্রেও মুখোমুখী না বসাই উত্তম। আর কোনো আড়াল না থাকলে মাসবুক বা নামাযী ব...
কিছু কিছু মসজিদে দেখা যায়, ছোট ছোট সুরা দিয়ে তারাবীহ পড়ে। এরপরও এত দ্রুত পড়া হয় যে, রুকু-সিজদাও ঠিকমতো আদায় করা হয় না। আমি জানতে পেরে বললাম, এতো নামাযের নামে প্রহসন। হাদীস শরীফে এভাবে নামায পড়াকে মুরগের ঠোকরের সঙ্গে তুলনা দিয়ে তা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তখন একজন বলল, অনেকে তো নামাযই পড়ে না। তারা তো এই দ্রুত নামাযে শরীক হতে পারছে। তা মন্দ কি?
আদব-ব্যবহার
নামায ইসলামের অন্যতম রুকন। ঈমানের পর নামাযের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কিয়ামতের দিন ইবাদতের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব নেওয়া হবে। তাই নামায সুন্দরভাবে আদায় করার প্রতি যত্নবান হতে হবে। রুকু-সিজদা এবং অন...
আমাদের এলাকায় এক মুসলিম সন্তান গত দুর্গা পুজায় হিন্দুদের সাথে তালে তালে মূর্তিদের নাম নিয়ে তাদের মতো করে নমষ্কার করে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে জানায় যে, এগুলো দুষ্টুমি করে করেছি। জানতে চাই, এতে কোনো ক্ষতি হবে কি না?
আদব-ব্যবহার
পূজার সময় সেখানে অংশগ্রহণ করা মূর্তির সামনে তাদের মতো আচরণ করা এবং মূর্তির নাম নিয়ে নমষ্কার জানানো সব কিছুই কুফরি কাজ। দুষ্টুমি করে করলেও ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। তাই ঐ ব্যক্তিকে এক্ষুণি কৃত কর্মের জন্য ত...
আমরা জানি যে, নামাযীর সামনে দিয়ে যাওয়া নিষেধ। কিন্তু অনেক সময় সালাম ফিরিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি, আমার সোজা পিছনে একজন নামায আদায় করছে। এমতাবস্থায় আমি তার সামনে থেকে সরে যেতে পারব কি? এক্ষেত্রেও নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার গুনাহ হবে কি?
আদব-ব্যবহার
কেউ যদি নামাযীর বরাবর সামনে থাকে তাহলে সেখান থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ আছে। এটা নামাযের সামনে দিয়ে অতিক্রম করার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে বিনা প্রয়োজনে এমন না করা উচিত। কেননা, এতে তার মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। আবা...
অনেকে বলে মাজারকে কবর বলা যাবে না। এতে করে ওলি আল্লাহদের অসম্মান হয়। আসলে কবর ও মাজারের পার্থক্য কী? কবরকে মাজার শরীফ ও মাজার শরীফকে কবর বলা যাবে কি? মাজার শরীফের উৎপত্তি কখন এবং কোথা হতে? আওলিয়ায়ে কিরামের মাজারকে কবর বললে তাদেরকে অসম্মান করা হয় কি না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরকে রওজা শরীফ বলা হয় কেন? মাজারকে সিজদা করা, চুমু দেওয়া, মাজারকে ভক্তি দেখিয়ে পিছন হয়ে বের হওয়া, মাজারে গিলাফ চড়ানো এবং মাজারের মধ্যে টাকা-পয়সা ফেলা, মাজারের সামনে গাছের গোড়ায় মোমবাতি জ্বালানো, আগরবাতি জ্বালানো, গোলাপ জল ছিটানো শরীয়তসম্মত কি না? না হলে ওলি আল্লাহদের মাজার বা কবরকে শ্রদ্ধা, ভক্তি ও যিয়ারতের পদ্ধতি কী? কুরআন-হাদীসের আলোকে দলিলসহ বিস্তারিত জানালে দ্বীন পালনে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।
আদব-ব্যবহার
কবর শব্দের অর্থ দাফনস্থল অর্থাৎ যে স্থানে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়। আর মাযার শব্দের অর্থ দুটি : যিয়ারত করা এবং যিয়ারত স্থল। তাই যে কোনো মুসলমানের দাফনস্থলকে যেমন কবর বলা যায় তেমনি যে কোনো মুসলমানের...
লোকমুখে শোনা যায় যে, আহার অবস্থায় সালাম দেওয়া ঠিক নয়। এমনিভাবে আগন্তুক এসে ঘরের লোকজনকে আহার অবস্থায় পেলে সালাম দিতে হয় না। প্রশ্ন হল, এই প্রচলিত কথাগুলো কি সঠিক?
আদব-ব্যবহার
আহারকারী অন্যকে সালাম দিতে পারবে। এ সময় অন্যকে সালাম দেওয়া নিষিদ্ধ নয়। তদ্রূপ আহারকারীকেও সালাম দেওয়া বৈধ। তবে এ সময় সালাম দেওয়া যদি তার কষ্ট বা বিরক্তির কারণ হয় তাহলে সালাম দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। কে...
ফতোয়া জিজ্ঞাসা করুন
আপনার ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর পেতে নিচের ফর্ম পূরণ করুন।