ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর ও ফতোয়া সমূহ
আমাদের হাসপাতালের পাশেই মসজিদ। মসজিদ সংলগ্ন বড় মাঠ। হাসপাতালে প্রায়ই দু চার জন করে মারা যায়। ওয়ারিসগণ মসজিদ সংলগ্ন মাঠেই জানাযার এন্তেজাম করে। একাধিক জানাযা উপস্থিত হলে সময় স্বল্পতার করণে মাঝেমধ্যে একত্রে জানাযার নামায আদায় করা হয়। কিন্তু প্রতিবারেই মায়্যেতকে কীভাবে রাখতে হবে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দেয়। আমরা কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি না। জানার বিষয় হল, একাধিক জানাযার ক্ষেত্রে মায়্যেতকে রাখার সঠিক পদ্ধতিটা কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।
মৃত্যু-জানাজা
একত্রে একাধিক লাশের জানাযা আদায় করতে চাইলে লাশগুলোকে ইমামের বরাবর সামনে কিবলার দিকে সারিবদ্ধভাবে রাখাই উত্তম। উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে সকল লাশ যদি পুরুষ হয় তাহলে মর্যাদা ও বয়সের দিক থেকে যারা বড় হবে তাদের...
কিছুদিন আগে আমার নানা ইন্তেকাল করেছেন। তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন। তবে তার গ্রামের বাড়ি ছিল পাবনা। সেখানে তার ঘরবাড়ি এবং জায়গা-সম্পত্তি আছে। গ্রামে তিনি একটি মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেগুলোর মুতাওয়াল্লি তিনিই ছিলেন। তাই কিছুদিন পরপরই সেখানে যেতেন। কয়েক দিন করে থাকতেন। মাদরাসাই ছিল তার সারা জীবনের স্বপ্ন এবং তার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। তার খুব তামান্না ছিল, উক্ত মাদরাসা-মসজিদের কাছেই তার কবর হবে। সন্তানদেরকে এ কথা বলেছেনও বিভিন্ন সময়। কিছুদিন আগে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তখন তার দাফনের বিষয় নিয়ে মতভেদ হয়। গ্রামের লোকদের দ্বীনী মুরুবিক্ষ হওয়ায় তাদের চাওয়া ছিল তাকে গ্রামে দাফন করা হোক। এ ছাড়া বাবার কবর সেখানে থাকলে স্বভাবতই সন্তানদের মাদরাসার প্রতি বিশেষ মনোযোগ থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় আনেন কেউ কেউ। আর তার নিজের তামান্না উপেক্ষা করাটাও সন্তানদের কাছে কষ্টকর হয়। তাই তাকে পাবনাতে নিয়েই দাফন করা হয়। কিন্তু আমি জানতাম, লাশ এত দূর নিয়ে দাফন করা মাকরূহে তাহরীমী ও নাজায়েয। এখন জানার বিষয় হল, উপরোক্ত অবস্থায় তাকে গ্রামে নিয়ে দাফন করাটা শরীয়তের দৃষ্টিতে উচিত ছিল কি না? আর এটি মাকরূহে তাহরীমী বা নাজায়েয কাজ হয়েছে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
মৃত্যু-জানাজা
মৃত ব্যক্তি যেখানে ইন্তেকাল করে তাকে সে এলাকার নিকটবর্তী কবরস্থানে দাফন করা উত্তম। বিনাকারণে বেশি দূরে নিয়ে দাফন করা অনুত্তম। দূরে নিয়ে যাওয়ার ফলে যদি দাফনে অধিক বিলম্ব নাহয় এবং লাশ বিকৃত হয়ে যা...
কয়েক দিন আগে আমার বড় মামা মারা গিয়েছেন। গোসল দেওয়ার পর জানাযার নামাযের বেশ আগেই তার লাশ মসজিদের সামনে রাখা হয়। আমার এক মামাতো ভাই মাদরাসার কয়েকজন ছাত্রকে নিয়ে এলেন। কফিনের কাছে তাদেরকে তিলাওয়াত করতে বসালেন। আমার মনে একটু খটকা লাগল। কোথায় যেন শুনেছি, মৃত ব্যক্তির পাশে বসে তিলাওয়াত করা উচিত নয়। তবে স্পষ্ট কিছু মনে নেই। তাই সঠিক বিষয়টি জানতে চাই
মৃত্যু-জানাজা
গোসল দেওয়ার পর লাশের কাছে কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েয। কিন্তু গোসল দেওয়ার আগেমৃত ব্যক্তির নিকটে কুরআন তিলাওয়াত করা মাকরূহ। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মাইয়্যেতের গোসলের পরেযেহেতু তার কাছে তিলাওয়াত করা হয...
কিছুদিন আগে আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক দিন খোঁজাখুজির পরও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। একদিন হঠাৎ তার কর্তিত মস্তক নদীতে পাওয়া যায়। এ অবস্থায় এটির গোসল, নামায এবং দাফন-কাফন কীভাবে করতে হবে?
মৃত্যু-জানাজা
মৃত ব্যক্তির শুধু মাথা বা হাত-পা কিংবা কর্তিত অল্প অংশ পাওয়া গেলে এর গোসল, জানাযা কিছুই দিতে হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত মস্তকটি পবিত্র কাপড়ে মুড়িয়ে দাফন করে দিবে। উক্ত মাথার গোসল দেওয়া বা জানাযা পড়া যাবে...
একদিন যোহরের নামাযের উদ্দেশ্যে আমরা কয়েকজন মসজিদে যাচ্ছিলাম। মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে দেখলাম জানাযার নামায হচ্ছে। তখন আমরা জানাযা নামাযে শরীক হই। কিন্তু নমাযে কোনো এক কারণে আমাদের একজন আওয়াজ করে হেসে উঠল। এরপর আমরা একত্রে যোহরের নামায আদায় করেছি। জানার বিষয় হল, ঐ মুসল্লির জানাযা নামায কি শুদ্ধ হয়েছে? নামাযে উচ্চস্বরে হাসার কারণে তার অযু ভেঙ্গেছে কি? নতুন অযু ছাড়া তার যোহরের নামায কি আদায় হয়েছে?
মৃত্যু-জানাজা
জানাযা নামাযে উচ্চস্বরে হাসলে নামায ভেঙ্গে যায়। তবে অযু ভাঙ্গে না। তাই প্রশ্নোক্ত মুসল্লির জানাযা নামায শুদ্ধ হয়নি। তবে এ কারণে তার অযু ভাঙ্গেনি। তাই ঐ অযু দ্বারা তার পরবর্তী নামায পড়া সহীহ হয়েছে। জা...
এক দুর্ঘটনায় আমাদের গ্রামের এক পরিবারের চার ভাই একসাথে মারা যায়। আমি প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা জানাযা নামায আদায় করি। বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ছিল না। তাই হুযুরের কাছে জানতে চাই যে, একাধিক জানাযা উপস্থিত হলে জানাযা আদায়ের সঠিক পদ্ধতি কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
মৃত্যু-জানাজা
প্রত্যেক মাইয়েতের জন্য পৃথক পৃথক জানাযা পড়া উত্তম হয়েছে। কেননা একাধিক লাশ উপস্থিত হলে সেক্ষেত্রেও প্রত্যেকের জন্য আলাদা জানাযা পড়াই উত্তম। তবে সকলের জানাযা একত্রে পড়াও জায়েয আছে। -সুনানে কুবরা, বায়হা...
গত শুক্রবার আমার বড় ভাই মারা গিয়েছেন। আমি এবং অন্য দুজন কবরে নামলাম। স্বাভাবিকভাবে লাশ কবরে রেখে বাঁশও রেখে দিয়েছি। এমন সময় একজন মাওলানা সাহেব এসে বললেন, লাশ কিবলামুখী করা হয়েছে তো? বললাম, না। এ বিষয়টি যে সুন্নত তা তখন আমরা জানতাম না। এরপর মাওলানা সাহেব নিজেই বাঁশ সরিয়ে মুর্দাকে পুরোপুরি ডান দিকে কাত করে দিলেন। পরবর্তীতে কেউ কেউ আপত্তি করল যে, মুর্দাকে কিবলামুখী করার জন্য মাওলানা সাহেব যে বাঁশ সরালেন তা ঠিক হয়নি। কিবলামুখী করা তো ফরয নয়। আবার কেউ কেউ বললেন, শুধু চেহারা ডান দিকে করা উচিত। পুরো শরীর নয়। জানার বিষয় হল, এ বিষয়ে সঠিক মাসআলা কী?
মৃত্যু-জানাজা
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মাওলানা সাহেব ঠিকই করেছেন। মাইয়েতকে কবরে ডান কাতে সিনা কিবলামুখী করে দেওয়া সুন্নত। শুধু চেহারা ডান দিকে ফিরিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়। আর এ কাজের জন্য বাঁশ সরাতেও কোনো সমস্যা নেই। ইবরাহী...
জানাযার নামাযে দেখা যায়, অনেক লোক জুতা খুলে তার উপর দাঁড়ায়। অনেকে মাটিতে দাঁড়ায়। আবার অনেকে জুতাসহই নামায পড়ে নেয়। জানতে চাই, এভাবে জুতা পরে নামায পড়া জায়েয আছে কি? এক্ষেত্রে সঠিক পন্থা কী?
মৃত্যু-জানাজা
জায়গা পাক হওয়া জানাযা নামাযের জন্যও শর্ত। তাই নামাযি ব্যক্তির জুতা ও পায়ের নিচের মাটি উভয়টি যদি পবিত্র হয় তবে জুতা পরেও জানাযা নামায পড়া জায়েয আছে। আর দাঁড়ানোর স্থান পবিত্র হলে জুতা খুলেও দাঁড়াতে পার...
গত সপ্তাহে আমাদের এলাকায় জানাযার নামাযে আমার এক বন্ধুকে দেখলাম, তাড়াহুড়ো করে এসে তায়াম্মুম করে জানাযার কাতারে দাঁড়িয়ে গেল। পরে আমি তাকে ব্যাপারটা জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, জানাযার নামায অযু ছাড়া তায়াম্মুম করেও পড়া যায়। আমি জানতে চাই, তার কথা কি ঠিক? জানাযার নামায কি অযু ছাড়া তায়াম্মুম করে পড়া যায়?
মৃত্যু-জানাজা
তার ঐ কথা ঠিক নয়। বরং জানাযা নামাযের জন্যও অযু জরুরি। তবে অযু করতে গেলে যদি জানাযা নামায ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তাহলে তায়াম্মুম করে জানাযার নামায পড়া যায়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত,...
কিছুদিন আগে আমাদের মসজিদে ফজরের নামাযের আগ মুহূর্তে একটি জানাযা এসে উপস্থিত হয়। কথা ছিল, নামাযের পরপরই জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আনুষঙ্গিক কিছু কারণে বিলম্ব হয়। এমনকি সূর্যোদয়ের সময় হয়ে যায়। তখন জানাযার জন্য সবই প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও ঘোষণা করা হয় যে, এখন সূর্যোদয় হচ্ছে। জানাযা আরও দশ মিনিট পর অনুষ্ঠিত হবে। জানার বিষয় হল, উক্ত ক্ষেত্রে আরও ১০ মিনিট বিলম্ব করার প্রয়োজন কি ছিল? অথচ আমরা জানি, জানাযা উপস্থিত হলে দেরি করতে নেই।
মৃত্যু-জানাজা
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ১০ মিনিট বিলম্ব করে সূর্যোদয়ের পর জানাযার নামায আদায় করা ঠিকই হয়েছে। কারণ আগ থেকে জানাযা প্রস্তুত থাকলে সূর্যোদয়ের সময় জানাযার নামায আদায় করা মাকরূহে তাহরীমী। সুতরাং এক্ষেত্...
ফতোয়া জিজ্ঞাসা করুন
আপনার ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর পেতে নিচের ফর্ম পূরণ করুন।