ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর ও ফতোয়া সমূহ
আমি ঢাকা থেকেই প্রথমেই মদীনা শরীফ যাই, সেখানে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রওজা মুবারক যিয়ারতের উদ্দেশ্যে ২/৩ দিন অবস্থান করি। তারপর মক্কা শরীফে ওমরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি এবং আমি মদীনা থেকে অর্থাৎ মসজিদে নববী থেকে ওমরার নিয়তে ইহরাম বাঁধি। গাড়িতে উঠলে বাঙ্গালী ড্রাইভার আমাকে বলল, মদীনা থেকে ওমরার নিয়ত করলে হবে না। জুল হুলাইফা মসজিদ থেকে ওমরার নিয়ত করতে হবে। আমি তৎক্ষণাৎ বাংলাদেশের দুইজন বড় আলেমের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে দুইজনের দুই রকম মতামত পাই। যেমন, একজন বললেন, যেহেতু মদীনা শরীফ ও মসজিদে নববী মীকাতের আগে তাই আপনার ওমরার নিয়ত করা ঠিক আছে। কিন্তু অন্যজন বললেন, যেহেতু হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা শরীফ থেকে ওমরার ইহরাম বাঁধেন তাই আপনাকে জুল হুলাইফা মসজিদে এসেই ওমরার নিয়ত করতে হবে। এমতাবস্থায় কোনটি সঠিক? উল্লেখ্য, যুলহুলাইফা মসজিদে এসে পুনরায় অযু-গোসল না করে (ইহরাম বাঁধা এবং অযু আগেই ছিল) ওমরার নিয়ত করেছি। যেহেতু আসরের নামাযের জামাত মাসবুক হিসেবে শরিক হই। তাই ইহরামের নামায না পড়েই শুধু নিয়ত করে নিয়েছি। এটা কি ঠিক হয়েছে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
আদব-ব্যবহার
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার জন্য মসজিদে নববী থেকে ইহরাম করা জায়েয় হয়েছে। কেননা হজ্ব ও উমরার জন্য মীকাত এবং মীকাতের আগে যে কোনো জায়গা থেকে ইহরাম করা জায়েয। কারণ ইহরামের জন্য যে মীকাত নির্ধারণ করা হ...
অনেক সময় পার্কে হাঁটতে বের হই। সেখানে ভিক্ষুকরা কিছুদূর পরপর বসে থাকে। তারা পথচারীদেরকে সালাম দিতে থাকে। জানতে চাই, ভিক্ষুকের সালামের উত্তর দেওয়া কি ওয়াজিব?
আদব-ব্যবহার
যে ভিক্ষুক ভিক্ষার উদ্দেশ্যে পথচারীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সালাম দেয় তার ঐ সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব নয়। কিন্তু যে প্রকৃত অর্থে সালাম দেয় এবং সালামকে ভিক্ষার মাধ্যম না বানায় তার সালামের জবাব দেওয়া ওয়...
রমযানের শেষ দশকে কোনো ব্যক্তি ইতিকাফরত অবস্থায় পেশাব-পায়খানার জন্য মসজিদের বাইরে বের হলে পথে সালামের আদান-প্রদান করতে পারবে কি না? তদ্রƒপ কারো শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারবে কি না? আমাদের এখানে প্রচলিত আছে যে, ইতিকাফরত ব্যক্তি রাস্তায় কাউকে সালাম দেয় না এবং তাকে সালাম দিলে জবাব দেয় না; বরং কোনো ধরনের কথাবার্তা না বলে প্রয়োজন সেরে মসজিদে চলে যায়। হুযুরের কাছে এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলাটি জানতে চাচ্ছি।
আদব-ব্যবহার
ইতিকাফরত ব্যক্তি পেশাব-পায়খানার জন্য মসজিদের বাইরে গেলে আসা যাওয়ার পথে পথ চলতে চলতে সালাম আদান-প্রদান করতে পারবে। তদ্রƒপ এসময় পথ চলতে চলতে কারো সাথে অল্পস্বল্প কথাও বলতে পারবে। এতে ইতিকাফের ক্ষতি হবে...
(ক) আমরা জানি, মৃত ব্যক্তিকে কবরে তিনটি সওয়াল করা হবে। কিন্তু এমনও লোক আছে যাদের মৃত্যু হয় আকাশে বা সাগরে যাদের লাশ মাটিতে দাফন করার সুযোগ হয় না। তাদেরকে কোথায় সুওয়াল করা হবে? (খ) অনেক মানুষের লাশ সাগরে দাফন করা হয়ে থাকে সেটিই বা বৈধ কতটুকু? (গ) সাধারণ মানুষ তো আছেই অনেক আলেমকেও দুআর সময় বলতে শুনি, হে আল্লাহ! অমুকের রূহের মাগফিরাত করুন। আসলে অমুকের রূহের মাগফিরাত করুন হবে, নাকি হে আল্লাহ! অমুককে মাফ করে দিনÑ কোনটি সঠিক? (ঘ) কবর যিয়ারতের সময় কোন দিকে ফিরে দুআ-দরূদ পড়ব? (ঙ) কবর সামনে রেখে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করা যাবে কি?
আদব-ব্যবহার
ক) মৃত্যুর পর সওয়াল-জওয়াব এবং এর পরবর্তী প্রতিদান ও শাস্তি ইসলামী আকীদার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মৃত্যুর পর সওয়াল-জওয়াব হওয়ার জন্য লাশ মাটিতে দাফন করা এবং লাশ অক্ষত থাকা জরুরি নয়; বরং এ সময়ে বান্দার দেহ যে...
আমাদের দেশে পুরুষদের মধ্যে সালামের সময় মুসাফাহা করার প্রচলন আছে। কিন্তু মহিলাদের পরস্পরের সাথে মুসাফাহা করার প্রচলন নেই। হুজুরের নিকট জানতে চাই, মহিলাদের পরস্পরের সাথে মুসাফাহা করা জায়েয আছে কি না?
আদব-ব্যবহার
হ্যাঁ , মহিলাদের জন্যও পরস্পরে মুসাফাহার বিধান রয়েছে। পুরুষের মতো তাদের জন্যও পরস্পরে সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করা সুন্নত। -মুগনিল মুহতাজ ৩/১৭৫; আলমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ ৩৭/৩৫৭-৮ উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-...
বিতর নামায আমরা কোন নিয়মে পড়ব? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
আদব-ব্যবহার
বিতর নামায তিন রাকাত। ওয়াজিব। যা এশার পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়। তা আদায়ের নিয়ম স্বাভাবিক নামাযের মতই। তবে এতে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। যেমন এর প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহার সাথে অন্য স...
আমি যখন মুসাফির অবস্থায় থাকব তখন জামাতে নামায আদায় করা যাবে কি? যদি যায় তাহলে আমি যদি ইমামের সাথে শেষ দুই রাকাত পাই তাহলে কি বাকি দুই রাকাত আদায় করতে হবে? মুসাফির হিসেবে তো আমি ইমামের সাথে দুই রাকাত পেয়েই গেছি। মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।
আদব-ব্যবহার
মুসাফিরের জন্য স্বাভাবিক অবস্থায় জামাতের সাথে নামায আদায় করাই নিয়ম। সফরের কোনো তাড়া না থাকলে মুসাফির জামাতেই নামায পড়বে। আর মুসাফির ব্যক্তি মুকীম ইমামের পিছনে ইক্তিদা করলে চার রাকাত বিশিষ্ট নামায চার...
আমরা হজ্বের বিভিন্ন বইয়ে পড়েছি, ইহরাম করার আগে দুই রাকাত নফল নামায পড়া সুন্নাত। কিন্তু কিছুদিন আগে এক ভাই থেকে শুনলাম, ইহরামের আগে কোনো নামায নেই। বরং তা বিদআত। কথাটি শোনার পর বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই। এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা কী? দলীল প্রমাণসহ জানতে চাই।
আদব-ব্যবহার
একাধিক হাদীসে নামাযের পর ইহরাম করার কথা এসেছে। অতএব ফরয নামায আদায় করলে এরপর ইহরাম করবে নতুবা ইহরামের উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামায পড়ে এরপর ইহরাম করবে। এটিই সুন্নত। সহীহ বুখারীতে আছে, উমর রা. বলেন...
ক) নামাযে ইমাম রুকুতে থাকলে আগত মুক্তাদির করণীয় কী? এ সময় মুক্তাদি হাত বাঁধবে কি? খ) ইমামের শেষ বৈঠকে মাসবুকের করণীয় কী? মাসবুক কি কিছু পড়বে? বিস্তারিত জানালে খুব উপকার হত।
আদব-ব্যবহার
ক) প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি দাঁড়ানো অবস্থায় তাকবীরে তাহরীমা বলে নামাযে শরিক হবে। অতপর আবার তাকবীর বলে রুকুতে যাবে। এক্ষেত্রে তাকবীরে তাহরীমার পর হাত বাঁধবে না এবং সানাও পড়বে না। Ñমুসান্নাফে ই...
আমাদের এলাকায় বহুল প্রচলিত একটি বিষয় সম্পর্কে হুযুরের নিকট জানতে চাই। দয়া করে জানালে উপকৃত হব। সাধারণ লোকজন কবর ও মাযারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতের ইশারায় বা কবরের দেয়াল স্পর্শ করে কবরবাসীকে সালাম দিতে দেখা যায়। এভাবে সালাম দেওয়ার প্রচলন শরীয়তসম্মত কি না?
আদব-ব্যবহার
কবরবাসীকে সালাম দেওয়া এবং যিয়ারত করার পদ্ধতি হাদীসে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ হয়েছে। সে পদ্ধতি ছাড়া কবরবাসীর সাথে অন্য কোনো আচরণ বৈধ নয়। হাতের ইশারায় কিংবা কবরের দেয়াল ছুঁয়ে সালাম দেওয়া এবং কবর...
ফতোয়া জিজ্ঞাসা করুন
আপনার ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর পেতে নিচের ফর্ম পূরণ করুন।